ভাইরাস প্রতিরোধী ডুয়াল ডিফেন্ডার প্রযুক্তি সহ দেড় টনের নতুন স্মার্ট ইনভার্টার এসি : WSI-KRYSTALINE-18C

নিত্যনতুন প্রযুক্তি সম্বলিত উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রন যন্ত্র তথা এসির জন্য আমাদের দেশে অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন। বিগত বহু বছর ধরেই ওয়ালটন আধুনিক সকল চাহিদার মান এবং সকল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় রেখে দেশেই বিভিন্ন মডেলের এসি উৎপাদন করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক নামীদামী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসিগুলোর সাথেও প্রতিযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সম্প্রতি ওয়ালটন তাদের ক্রিস্টালাইন সিরিজের অধীনে আরেকটি নতুন এসি নিয়ে এসেছে। আর এটি এই সিরিজের অধীনে একটি ১.৫ টন ক্যাপাসিটির এসি, অর্থাৎ ১৮০০০ বিটিইউ। ওয়ালটন এই টুইনফোল্ড ইনভার্টার এসিতে বাতাসের বিশুদ্ধতা রক্ষা, বাতাসকে সকল প্রকার ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষার ব্যাপারে দারুনভাবে কজ করেছে। কেননা এই এসিটির অন্যতম একটি প্রমিসিং ফিচার এর ‘ডুয়াল ডিফেন্ডার’ তথা স্মার্ট ডিফেন্ডার প্রযুক্তি।

একনজরে WSI-KRYSTALINE-18C [Smart Defender]

  • বিটিইউঃ ১৮০০০
  • ইনপুট পাওয়ারঃ ১৫০৭
  • রেফ্রিজারেন্টঃ আর-৪১০এ
  • কম্প্রেসর ধরনঃ রোটারি-ইনভার্টার
  • দামঃ ৬৬ হাজার

WSI-KRYSTALINE-18C এটি একটি স্মার্ট আইওটি বেইজড এসি। যার ফলে এই এসিটিকে রিমোট ছাড়াও একটি অ্যাপ এর মাধ্যমে কন্ট্রোল করা যাবে। এসিটি বাসার বা অফিসের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত থাকবে। আর এই অ্যাপ দিয়ে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকেই এই এসিটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

এসিটিতে বাতাসকে বিশুদ্ধ করার জন্য পরপর দুটি দারুন কার্যকরী সুবিধা দেয়া হয়েছে, একটি আইওনাইজার এবং আরেকটি অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার। আইওনাইজার সুবিধা সম্পর্কে আমরা অনেকে জানি, এটি এসির মাধ্যমে বাতাসে নেগেটিভ আয়ন উন্মুক্ত করে দিয়ে বাতাসের খারাপ কিছু উপাদানকে বিনষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে এর পাশাপাশি এসিটিতে থাকা অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার এর বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাতাসকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে। আর এই অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার ০.৩ মাইক্রন আকৃতি পর্যন্ত ব্যক্টেরিয়া, ভাইরাস অনুকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি সাধারন ইনভার্টার এসি থেকে অনেক বেশি কার্যকর। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটি শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে।

ইনভার্টার প্রযুক্তির এসিটিতে ব্রাসলেস ডিসি মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এটি খুবই স্মুথ এবং নিঃশব্দের সাথে কাজ করতে সক্ষম। এতে করে রাতে ঘুমানোর সময় এই এসি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত এমন কোন যান্ত্রিক শব্দ আসবে না, যা আপনার ঘুমকে বিঘ্নিত করতে পারে। তাই এই এসিটি তার নিজের কাজ খুব ভালোভাবে করে যাবে একদম নিঃশব্দে পূর্ণ দক্ষতার সাথে। আর টুইনফোল্ড ইনভার্টার প্রযুক্তির ফলে কম্প্রেসর এর নিয়ন্ত্রণ এই এসিটিতে অনেক পরিকল্পিত, যা এসিটিকে অন্যসব ইনভার্টার এসির থেকে অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করেছে।


ক্রিস্টালাইন স্মার্ট এসিটি মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করতে সক্ষম। বহু এসি শুধু সিঙ্গেল ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করে, যার ফলে যারা কেবল এসির সামনে অবস্থান করে তারাই বাতাস পায়, ঘরের কোনায় কিংবা অন্য কোন স্থানে থাকা ব্যাক্তি বাতাস পায় না। তবে ক্রিস্টালাইন এসির মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করার সক্ষমতার ফলে সব দিকেই সমানভাবে শীতল বাতাস প্রবাহিত হবে।

ক্রিস্টালাইন স্মার্ট এসিতে আপনি পাবেন ১৬ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত টেম্পারেচার মোড । বাজারের বহু এসিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া যায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে এতে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পাবেন।

আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের জন্য আর৪১০এ হল একটি মানসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, আর ৩২ তার থেকেও পরিবেশসম্মত গ্যাস। আগে আর২২ ব্যবহার করা হত যা ছিল অজোন স্তর জন্য খুবই মারাত্তক।

যেহেতু গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মত বৈশ্বিক সমস্যার জন্য অন্যতম দায়ী এসির মত ইলেকট্রনিক্স এপ্লায়েন্স, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তাও বিবেচনার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস এর আরেকটি নিয়ামক মাত্রা হল GWP, তথা গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল মান। GWP মান যত কম হবে এসিটি বাতাসে তত কম তাপ উৎপন্ন তথা কার্বন ছাড়বে।R-410A রেফ্রিজারেন্ট এর GWP মান ২০৯০। এবং R-32 রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, এটির GWP মান ৬৭৫।

বাংলাদেশের মত দেশে এসির মত হাই ইলেকট্রিসিটি কনজিউমিং ডিভাইসের ক্ষেত্রে এটি কতটা বিদ্যুত সাশ্রয়ী তা বিবেচনা করা খুবই জরুরী। ক্রিস্টালাইন এসিটির ইনপুট পাওয়ারও তুলনামূলকভাবে কম, আর এসিটি টুইনফোল্ড ইনভার্টার প্রযুক্তির হওয়ার ফলে, তুলনামূলকভাবে অনেকটা বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

এসিটি দেখতে অবশ্যই আপনার আসেপাশের নিকটস্থ ওয়ালটন ডিলার শো-রুম অথবা ওয়ালটন প্লাজায় চলে যেতে পারেন। এসিতে থাকছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। এসির কম্প্রেসরে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আরো পাবেন ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। বর্তমানে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃক পরিচালিত ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সমস্যায় খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *