সদ্য স্বাধীন দেশ, স্টেনগান হাতে বিয়ের আসরে হাজির বর!

বিজয় মাসের শুরুতে আলাপ হয় বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে। আলাপচারিতার শেষের মজার অংশ দিয়েই শুরু করা যাক। এরপর যুদ্ধের সব অন্তরাত্মা কাঁপানো ঘটনা। আলাপচারিতার শেষের দিকে নিজের বিয়ে নিয়ে মজার তথ্য দেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একাত্তরের ২০ ডিসেম্বর নিজ উপজেলায় স্টেনগান হাতে তিনি এক নিকটাত্মীয়কে বিয়ে করেন। স্টেনগান হাতে নিয়েই তিনি বিয়ের আসরে হাজির হন।

বাবা বেঁচে নেই। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় মো. কামাল খাঁ। পড়াশোনা করেন দশম শ্রেণিতে। এরই মধ্যে একাত্তরের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণ ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে কিশোর কামালকে। মনস্থির করেন যুদ্ধে যাওয়ার। কিন্তু ছেলের এই সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেন বছর তিনেক আগে স্বামীহারা শামছুন্নাহার বেগম। এ অবস্থায় এক রাতে মাকে ঘুমে রেখেই চলে যান যুদ্ধের ময়দানে।

ট্রেনিং নেওয়ার আগেই মুখোমুখি যুদ্ধের সম্মুখীন হন কামাল খাঁ। সব মিলিয়ে আট-দশটি সম্মুখযুদ্ধে জড়ান নিজেকে। সেসব স্মৃতি আজও গেঁথে আছে মনে। তবে সঠিক সময় ও সহযোদ্ধাদের নামধাম নিয়ে গোলমাল বেধে যায়। সে কারণে যুদ্ধদিনের কিছু ঘটনা লিখে রেখেছেন।

কামাল খাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামে। বর্তমানে থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দক্ষিণ কালীবাড়ি মোড়ে ভাড়া বাড়িতে। গত শুক্রবার দুপুরে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বণিকের বাসায় এবং সন্ধ্যায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাঠাগারে বসে কথা হয় কামাল খাঁর সঙ্গে। শুরুতেই বললেন, ‘রাজনীতির নামে যে ধরনের কর্মকাণ্ড চলে, তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন, তাতে আমি আশাবাদী।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *