আইনি ফাঁক খুঁজছে বিসিবি

আইসিসির এন্টি করাপশন ইউনিটের (আকসু) সঙ্গে সমঝোতা করেছেন সাকিব আল হাসান। স্বীকার করেছেন দোষ ও মেনে নিয়েছেন শাস্তি। নিজেকে বাঁচাতে হাঁটেননি কোনো আইনি পথে। আকসুর হাতে প্রমাণ থাকায় আইনি লড়াইয়ে লাভ হবে না তাও তিনি জানতেন। নিজের ভুলেই ফিক্সিং না করে, জুয়াড়ির প্রস্তাব গ্রহণ না করেও ভোগ করতে হচ্ছে শাস্তি। আগামী এক বছর থাকবেন সব ধরনের ক্রিকেটের বাইরে। এমনকি ২০২০-এ অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলাও তার অনিশ্চিত। এখন তিনি আপিলও করতে পারবেন না শাস্তি কমানোর জন্য।

আর সাকিব মেনে নেয়ায় তার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিবি) সুযোগ নেই আপিল করার। তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে দলে পেতে মরিয়া বিসিবি। তারা সুযোগ খুঁজছেন কিভাবে শাস্তির সময় সীমা কমানো যায়। গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন এই (সাকিব) বিষয়ে বিসিবি’র করনীয় খুবই সীমিত। যেহেতু সাকিব এই বিষয়টি স্বীকার করে একটি চুক্তির মধ্যে চলে গিয়েছে। আমাদের করার কিছু থাকে না। তারপরেও আমরা দেখবো। আইনি বিষয়গুলো নিয়ে কীভাবে কাজ করা যায়। আমরা ইতিমধ্যে আমাদের আইনি বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। এই বিষয়ে কোনো সুযোগ আছে কিনা, সেটা আমরা ওয়ার্ক আউট করবো।’

বিসিবি’র এমন বার্তায় আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট পাগল মানুষ। দেশের ক্রিকেটের সুপারম্যানের শাস্তি কমতে পারে ভেবে তারা উচ্ছ্বসিত। তবে সেই আশা যে অনেক কঠিন। একমাত্র সাকিবই পারেন নিষিদ্ধ থাকার সময়টা আইসিসি ও আকসুকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে মন জয় করতে। সেই ক্ষেত্রে বিসিবিও তার জন্য অনুরোধ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির প্রভাবশালী এক পরিচালক। যদি এমনটি হয় তাহলে অন্তত ৩ মাস শাস্তি কমিয়ে আনা যেতে পারে বলে বিশ্বাস বিসিবি পরিচালকের। বিসিবি’র সিইও নিজামুদ্দিন অবশ্য এখনই কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করতে রাজি নয়। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এই বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। তাহলে আগে আগে মন্তব্য করা হয়ে যাবে। মাত্র দুদিন হলো, এই (সাকিব) বিষয়ে আমরা একটি সিদ্ধান্ত জানতে পেরেছি। এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত। এই বিষয়গুলো নিয়ে বোর্ডে আলোচনা করতে হবে। কতটুকু করা যায় বা কতটুকু করার সুযোগ রয়েছে এটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে বোর্ড সভায়। যেহেতু এটা আইনি প্রক্রিয়া। এটা জেনে তারপরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
অন্যদিকে কবে নাগাদ সাকিবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হতে পারে তাও জানিয়েছেন বিসিবির সিইও। তিনি বলেন, ‘দেখেন সাকিব আমাদের টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ছিল। আমাদের সামনে ভারত সফর আছে, দল চলেও গিয়েছে। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দ্রুত আলোচনার দরকার ছিল। আশা করি পরবর্তীতে এটা বোর্ড সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এছাড়াও বিসিবি’র আরেকটি সূত্রের দাবি সাকিবের ইস্যুতে যে কোনো প্রক্রিয়া এত দ্রুত শুরু করাও সম্ভব নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘না, খুব দ্রুত সাকিবের ইস্যুতে বিসিবির কিছু করনীয় নেই। সময় নিয়ে সব দিক থেকে বুঝেই করতে হবে। আমার মনে হয় অন্তত ৪ বা ৫ মাস সময় নিয়ে বিসিবি যদি আইসিসিকে অনুরোধ করে তাহলে তারা হয়তো বিবেচনা করতে পারে। করবে কিনা সেটি আসলে পুরোটাই আইসিসির উপর নির্ভর করবে। কারণ তারাতো নিষেধাজ্ঞার সময়টাতে সাকিবকে পর্যবেক্ষণও করবে। তারা যদি মনে করে সাকিবের শাস্তি কমানো যাবে তাহলে হয়তো সম্ভব। এখানে আমাদের চেষ্টাতো থাকবে। আবার সাকিবেরও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকতে হবে। আর দুঃখের বিষয় সাকিব যদি আমাদের বিষয়টি আগে জানাতো তাহলে বিসিবি’র হয়তো কিছু করার থাকতো।’

গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই জানা যায় নিষিদ্ধ হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। ভারতীয় এক জুয়াড়ির সঙ্গে তার মোবাইল বার্তায় যোগাযোগ হয়েছিল। যা আইসিসির নিয়ম অনুসারে তাদের ও বিসিবিকে জানানোর কথা থাকলেও সাকিব তা করেননি। এমন তথ্য গোপন করার কারণে তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। এর এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ এক বছরই থাকতে হবে মাঠের বাইরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *