Rape case

বিনিময়ে জুটল কেবল ধর্ষণ, কিল-ঘুষি-লাথি।

৩৩ বছর বয়সী বাংলাদেশী নারী সূর্যের আলো দেখেনি ১ মাস। প্রতিদিন ধর্ষণের মাধ্যমে কেটেছে তার দুর্বিষহ জীবন। একই পরিবারের কর্তা ও তার ৬ ছেলে মিলে বার বার ধর্ষণ করেছে তাকে। প্রতিবাদ করলেই কিল-ঘুষি-লাথি। আর্তনাদ আর চোখের জলেও তাদের কারো মন গলেনি। বরং অত্যাচার আরো বেড়ে গেছে। বিশেষ করে তলপেটে আঘাতের কারণে মুমূর্ষু অবস্থায় কয়েকবার হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়।

এমন নরকীয় বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, কেমন তিনিই নন, তার মত আরেক বাংলাদেশী নারীও ছিলেন সেই সৌদি পরিবারে বন্দী। তার উপরও চলেছে একই রকম নির্যাতন। গরম খুন্তি দিয়ে তাদের হাত-পা ঝলসে দেওয়ার মত নির্যাতনও চালায় তারা।

নির্যাতিত নারীদের স্বজনদের মতে, ভাল কাজের আশায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সৌদিতে যান তারা। সেখানে গিয়ে তাদের সব আশা মিথ্যে হয়ে যায়।

এই ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগ এনে একজন সৌদি নাগরিকসহ বাংলাদেশী ৭ নাগরিকের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা হয়। মামলার কার্যক্রম চলছে।

৩৩ বছর বয়সী নারীর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। সেখানে তার বেড়ে উঠা। ৮ বছর আগে তার বিয়ে হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে তার ৩ সন্তান হয়। তার স্বামীর আয়ে তার সংসার চলতো না। অভাব লেগেই থাকতো। সংসারের অভাব দূর করতে স্বামী-স্ত্রী ২জনেই বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী স্ত্রী ভিসার জন্যে আবেদন করলেও স্বামীর ভিসা না হয়ে ঐ নারীর ভিসা আসে। আড়াই লাখ টাকা খরচ করে যান সৌদি আরবে।

বলা হয়েছিল, সৌদিতে ৩ সদস্যের ১ পরিবারে কাজ করতে হবে। পরিবারের ছোট এক বাচ্চাকে দেখা শুনা করাই মূল তার কাজ। বাচ্চার পাশাপাশি সংসারের টুকটাক কাজ করা। বেতন দেওয়া হবে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা।

সে পরিবারে বন্দী থাকা ৩০ বছর বয়সী অন্য নারীর বাড়ি ঝালকাঠি। দেশে থাকতে কাজ করতেন ঢাকার একটি পোশাক তৈরির কারখানায়। বেতন পেতেন মাসে ৮ হাজার টাকা। বিদেশে চাকরি করে ভাল বেতন পাওয়া যাবে এমন কথা শুনে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। শেষমেশ বিদেশও যান। সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে ২ জুলাই ঢাকার একটি আদালতে মামলার পর গত সপ্তাহে ঐ ২ নারীকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

শরীয়তপুরের নারীর স্বামী বলেন, তার স্ত্রী সৌদিতে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। বাবা-ছেলে মিলে যে যৌন নির্যাতন করেছেন, তা কল্পনা করতেও ভয়ে গা শিউরে উঠে। তার স্ত্রী বহুবার সৌদির বাবা-ছেলের পা ধরে বলেছেন, তাকে যেন মুক্তি দেন। তারা বলেছে, যদি সে যৌন কাজে বাধা দেয়, তাহলে তাকে ৩ টুকরো করে ফ্রিজে রেখে দিবে। ঝালকাটির নারীর ভাই বলেন, একদিন তার বোন তাকে বলেছে, ভাই আমি আর বাঁচবো না। আমাকে এই নরক থেকে উদ্ধার করেন।

সৌদি আরব থেকে যেদিন ২ নারী ঢাকার বিমানবন্দরে নামেন। সেদিন তাদের দেখে চিনতে পারছিলেন না তাদের স্বজনরা। সালোয়ার কামিজের বদলে তাদের পরনে ছিল শার্ট আর প্যান্ট। এক নারীর স্বামী বলেন, জীবনে কোন দিন চিন্তাও করিনি তার স্ত্রীর পরনে থাকবে শার্ট-প্যান্ট।

 

আমি শুধু যৌন চাহিদার বস্তু রয়ে গেলাম। ক্রিকেটার শহীদের স্ত্রী

১০ হাজার টাকার চুক্তিতে বাসায় আসেন তরুণী

Comments

comments