ফেসবুক পীর!

আহসান হাবিব পেয়ারের মত ভন্ড পীরের ফেসবুকে অভাব নাই। সব পীর আবার সৌদি স্টাইলে জোব্বা পরে না। তারা কেউ শার্ট-প্যান্ট পরে, কেউ আবার টিশার্ট পরে। তবে যে যেটাই পরুক। ভিডিও কলে সবকিছু খুলে ফেলতে এরা এক্সপার্ট। দুদিনের পরিচয়ে এরা সব খুলে দেয়, অন্যজনের সব খুলে দেখতে চায়। আর আবেগ বেঁচে, ধর্ম বেঁচে শেষেমেশ একটা কমন পাঞ্চলাইন দিয়ে দেয়, “আমার নাম্বারে বিকাশ করুন”।

এইসব পীরদের ফাঁকে ফাঁকে আসে কিছু সিজনাল পীর। যমুনার পানি পদ্মা হইয়া মেঘনায় আসে। এইটাই তারা একটু উল্টায়ে দেখাবে। মানুষজন দেখবে নতুন ফ্লেভার। আর্মি ক্যাম্পের মত হাজার হাজার স্যালুট পড়বে। অনুভূতি জানাবে, আরে এতদিন এই পীর কোথায় ছিল?
ঠাস করে মুরিদ হয়ে যাওয়া এই মুরিদরা ভয়ংকর। পীরের করা অন্যায়, মানুষ ঠকানো, দুই নাম্বারির বিরুদ্ধে তখন কিছু বললে এরা নিতে পারে না। পীর অনুভূতিতে আঘাত লাগে। তারা আইসা বলে, আপনি কয়টা লাইক পান যে আমাদের পীরের পিছে লাগেন?
এদিকে, শাদা শাড়ি পরা সহিহ পীরের ছবিতে যারা দুইদিন ধরে লাভ রিএক্ট দিছেন তারাই এখন পীরের চার বছর আগের “পেয়ারে রাজাকার” স্ট্যাটাস দেইখা হা হা রিএক্ট দিতেছেন। স্যরি ট্যরি বলতেছেন। কয়েক লাখ টাকার কমিউনিটি সেন্টার, লাখ লাখ টাকার ইভেন্ট, ৫০/৬০ হাজার টাকার ওয়েডিং ফটোগ্রাফি দেইখাও তারা অন্ধ হইয়া ছিল। এখন চোখ খুলছে, তারা ঘুম থেকে উঠছে। তাদের দিন শুরু হয় মাগরেবের পরে।

এদিকে ৩ লাখ ফলোয়ারের এক পীরকে রোস্ট বানায়ে আরেক পীর ১ লাখ সাবস্ক্রাইবারের বিরিয়ানি রান্না করছেন। এটাকে হয়ত বলে পীরের উপর পীরগিরি।

সব পীরদের পীরিজম, মুরিদদের মুরিদিজম এইগুলার ফাঁকে আমাদের মত আম জনতার পক্ষ থেকে একটা বিশেষ কথা জানাইয়া যাই। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন আবার বাড়ছে শতকরা পাঁচ পার্সেন্ট। গরুর মাংসের আরো ৩৫ পার্সেন্ট দাম বাড়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। সামনে কোরবানি। যতটা পারেন এক বছরের জন্য খাইয়া নেন। তারপর সারাবছর লাইকের ঝোল রান্না কইরা খাইয়েন।
উত্তরাঞ্চলের বন্যা, সারাদেশ পানিবন্দী হয়া কাঁচাবাজারের আগুন দাম, চালের গুদাম ফাঁকা। মোটা চাল ষাট টাকা থেকে বেড়ে কত হবে সেটার ঠিক নাই। পেঁয়াজের কেজি ৭০ ছাড়াইছে অলরেডি। দুই পয়সা ইনকাম করা ফকিন্নিরা (নিম্ন মধ্যবিত্ত) কি খেয়ে বাঁঁচবে সেইটা চিন্তা করার কোন দরকার নাই!!!

আপনারা ভাইরাল হতে থাকেন, এটেনশন নিতে থাকেন, মোটিভেশন দিতে থাকেন, রোস্টিং করতে থাকেন। পীর থেকে পীরে কামেল হইয়া যান।

আমরা না হয় একজন সামান্য সিদ্দিকুর হয়েই বাঁচলাম। চোখের আলো হারিয়ে কিংবা চোখ থাকতেও আপনাদের এত এত সিনেমা দেখতে না পারার যন্ত্রণা নিয়ে!

লেখাঃ- তানভীর মেহেদী

Comments

comments