পথশিশু

ফুল বিক্রির সম্পূর্ণ টাকা বন্যার্তদের দান করলো পথশিশু সুমাইয়া

বিকাল ৫ টা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। একদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী বন্যার্তদের জন্য ত্রান তহবিল সংগ্রহে হাতে বক্স নিয়ে সকলের কাছে অাবেদন করছে। হঠাৎ সামনে হাজির ছোট একটি ফুটফুটে মেয়ে, মাথায় ফুলের বেনী,গলায় মালা, দুই হাতে ফুলের মালা প্যাচানো,নাম তার সুমাইয়া।সবাই যাকে পথশিশু সুমাইয়া হিসেবেই চিনে। পথে পথে ফুল বিক্রি করাই যার দৈনন্দিন কাজ।

এবার মূল কথায় অাসা যাক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ দ্যা ফিউচা’র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরা যখন ত্রান তহবিল সংগ্রহের এক পর্যায়ে সুমাইয়ার সাথে দেখা, তখন শিশুটি হাসি -মুখে বললো, অামার অাজকের সকল ফুল বিক্রির টাকা বন্যার্তদের জন্য দিয়ে দেবো। এই বলে সে হাতের সকল টাকা বক্সে দেয়ে দিলো। শুধু এখানেই শেষ নয়। সে তার সকল বন্ধুদের ডেকে একসাথে করে স্বেচ্ছাসেবকদের হাত থেকে বক্স নিয়ে সবাই মিলে পথচারীদের কাছ থেকে বন্যার্তদের জন্য টাকা তুলেছে বেশ কিছু সময় ধরে।


সত্যিই পথশিশুদের এ মহান মানবতা অামাদের অন্ধকার বিবেককে কুঠারাঘাত করেছে, চোখে অাঙ্গুল দিয়ে স্মরন করিয়ে দিয়েছে মানবতার কোন স্থান,কাল, সীমাবদ্ধতা নেই। পথশিশু বলে অবজ্ঞা বা ছোট ভাববার কোন সুযোগ নেই। দেশের উত্তরাঞ্চলের এই সংকটময় মুহূর্ত যদি পথশিশুদের অন্তরকে এ অবস্থায় পৌঁছাতে পারে তাহলে অামরা যারা বাসায়, দালানে থাকি অামাদের নতুন করে নিজকে, নিজের বিবেকবোধকে প্রশ্ন করে জাগাতে হবে। যান্ত্রিক সমাজকে মানবিক সমাজে রুপান্তির করার শপথ নিতে হবে সুমাইয়াদের এ ঘটনা থেকে।
পরিশেষে বলতে হয়, হাজার বিনম্র সালাম সুমাইয়া। তোমরা বেঁচে থাকো এ দেশের জন্য, ভবিষ্যতের জন্য। তাহলেই লজ্জিত হবে অাকাশ ছোঁয়া অন্ধকার বিবেক।

পরিশেষে আমি ফারজানা বলতে চাই

ছোট বেলায় একটা কবিতা পড়ছিলাম
(আপনাকে বড় বলে
বড় সে নয়
লোকে যাকে বড় বলে
বড় সে হয়))

একটা পিচ্ছি মেয়ে পথশিশু যার কোন
দাম আমরা দেই না
সে এমন একটা কাজ করলো
আজ সারা বাংলাদেশি সেই মেয়েকে সালাম সালাম করতেছে এটাই হল মানবতা

(লেখাটা ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত)

Comments

comments